বাংলাদেশ সরকারের রেমিট্যান্স প্রণোদনা
বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান প্রণোদনা হার
২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত, বাংলাদেশ সরকার বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য ৫% প্রণোদনা প্রদান করছে। এই হার ২০২৩ সালের অক্টোবরে ২.৫% থেকে বাড়ানো হয়েছে। এর অর্থ, আপনি যদি ১ লাখ টাকা বাংলাদেশে পাঠান, তাহলে প্রাপক অতিরিক্ত ৫,০০০ টাকা প্রণোদনা হিসেবে পাবেন। তবে, এই প্রণোদনা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে নয়।
প্রণোদনা কখন এবং কীভাবে দাবি করবেন?
কখন প্রণোদনা পাওয়া যায়?
- প্রণোদনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাপকের অ্যাকাউন্টে যোগ হয় যদি রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৫,০০,০০০ টাকার কম হয়। এই ক্ষেত্রে কোনো ডকুমেন্ট জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
- ৫,০০,০০০ টাকার বেশি রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে প্রণোদনা দাবি করতে প্রাপককে কিছু ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে।
কীভাবে প্রণোদনা দাবি করবেন?
- ৫,০০,০০০ টাকার কম রেমিট্যান্সের জন্য:
- প্রণোদনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাপকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বা ক্যাশ পিকআপের ক্ষেত্রে নগদে যোগ হয়।
- প্রাপকের কোনো ডকুমেন্ট জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
- যদি প্রণোদনা যোগ না হয়, তাহলে প্রাপককে তার স্থানীয় ব্যাংক শাখায় যোগাযোগ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক স্থানীয় ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যে প্রণোদনা সঠিকভাবে প্রদান না করলে ব্যাংক জরিমানার সম্মুখীন হতে পারে।
- ৫,০০,০০০ টাকার বেশি রেমিট্যান্সের জন্য:
- প্রাপককে নিম্নলিখিত ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে:
- প্রেরকের পাসপোর্টের কপি।
- প্রেরকের চাকরির প্রমাণ (যেমন নিয়োগপত্র, নিয়োগকর্তার চিঠি, বা BMET থেকে সার্টিফিকেট)।
- ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক লাইসেন্সের কপি।
- এই ডকুমেন্টগুলো প্রাপকের ব্যাংক শাখায় জমা দিতে হবে।
- ডকুমেন্ট যাচাইয়ের পর প্রণোদনা প্রাপকের অ্যাকাউন্টে যোগ হবে।
শর্তাবলী:
- প্রেরককে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। তবে, যদি কেউ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হয়ে বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করে থাকেন, তারাও এই প্রণোদনার জন্য যোগ্য।
- প্রেরককে বিদেশে কর্মরত হতে হবে এবং তার বেতন সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান থেকে আসা যাবে না।
- প্রণোদনা শুধুমাত্র প্রাপক পাবেন, প্রেরক নয়।
যেসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠালে প্রণোদনা পাওয়া যাবে
বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, শুধুমাত্র বৈধ চ্যানেল (ব্যাংক এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত রেমিট্যান্স সার্ভিস প্রোভাইডার) ব্যবহার করলে প্রণোদনা পাওয়া যাবে। নিচে এমন কিছু প্রতিষ্ঠানের তালিকা দেওয়া হলো:
ব্যাংক
- বাংলাদেশের স্থানীয় ব্যাংক:
- সোনালী ব্যাংক
- জনতা ব্যাংক
- অগ্রণী ব্যাংক
- রূপালী ব্যাংক
- পূবালী ব্যাংক
- ডাচ-বাংলা ব্যাংক (DBBL)
- মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (MTB)
- ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড
- ব্র্যাক ব্যাংক
- সিটি ব্যাংক
- প্রিমিয়ার ব্যাংক
- এনআরবি ব্যাংক
- এবং অন্যান্য সকল বাণিজ্যিক ব্যাংক যারা বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে রেমিট্যান্স সেবা প্রদান করে।
- আন্তর্জাতিক ব্যাংক (যাদের বাংলাদেশে শাখা আছে):
- HSBC
- স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক
- ব্যাংক আলফালাহ (পাকিস্তান থেকে রেমিট্যান্সের জন্য)
- হাবিব ব্যাংক লিমিটেড (HBL, পাকিস্তান)
- ন্যাশনাল ব্যাংক অফ পাকিস্তান (NBP)
- ইউনাইটেড ব্যাংক লিমিটেড (UBL, পাকিস্তান)
মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (MFS)
- বিকাশ (bKash)
- নগদ (Nagad)
- রকেট (Rocket by DBBL)
- উপায় (Upay)
আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স সার্ভিস প্রোভাইডার
- ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন
- মানি গ্রাম
- ওয়াইজ (Wise)
- ওয়ার্ল্ড রেমিট
- রেমিটলি
- এনজাজ (Enjaz)
- এক্সপ্রেস মানি
- রিয়া মানি ট্রান্সফার
- এসি মানি ট্রান্সফার
- ট্যাপট্যাপ সেন্ড
- সেন্ডওয়েভ (Sendwave)
- প্লাসিড এক্সপ্রেস
- ট্রান্সফাস্ট (Transfast)
- রেমিট চয়েস
- টকরেমিট (TalkRemit)
- জুম (Xoom, a PayPal Service)
- এক্সই মানি ট্রান্সফার (XE)
- আজিমো (Azimo)
- স্মল ওয়ার্ল্ড (Small World)
- নালা (NALA)
- রকেট রেমিট (Rocket Remit)
অন্যান্য
- দোহা ব্যাংক (কাতার): দোহা ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠালে তাদের বাংলাদেশের অংশীদার ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রণোদনা পাওয়া যায়।
- সোনালী এক্সচেঞ্জ: সোনালী ব্যাংকের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান, যা বিশেষভাবে রেমিট্যান্স সেবা প্রদান করে এবং সরকারি প্রণোদনার সুবিধা দেয়।
অতিরিক্ত তথ্য
- বৈধ চ্যানেল ব্যবহারের গুরুত্ব: হুন্ডি বা অনানুষ্ঠানিক চ্যানেল ব্যবহার করলে প্রণোদনা পাওয়া যাবে না। এছাড়াও, বৈধ চ্যানেল ব্যবহার করলে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে সহায়তা হয় এবং দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হয়।
- প্রণোদনার উদ্দেশ্য: বাংলাদেশ সরকার এই প্রণোদনা চালু করেছে যাতে প্রবাসীরা বৈধ চ্যানেল ব্যবহারে উৎসাহিত হন। ২০১২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে রেমিট্যান্স জিডিপির তুলনায় ১০.৫% থেকে ৫.৪%-এ নেমে গিয়েছিল, যার একটি বড় কারণ ছিল হুন্ডি সিস্টেমের ব্যবহার। এই প্রণোদনা চালু হওয়ার পর রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।
- সতর্কতা: কিছু ক্ষেত্রে, যেমন সিঙ্গাপুরে, প্রবাসী শ্রমিকরা দালালদের মাধ্যমে চাকরি পান এবং তাদের রেমিট্যান্সে প্রণোদনা পান। এটি একটি অবৈধ প্রক্রিয়া হতে পারে, কারণ দালালরা লাইসেন্সপ্রাপ্ত নয়। তাই, সবসময় বৈধ এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করুন।
পরামর্শ
- আপনি যদি প্রণোদনা নিয়ে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হন, তাহলে প্রাপককে তার ব্যাংক শাখায় যোগাযোগ করতে বলুন।
- রেমিট্যান্স পাঠানোর আগে নিশ্চিত করুন যে আপনি যে প্রতিষ্ঠান ব্য
বহার করছেন তা বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে লাইসেন্সপ্রাপ্ত। - প্রণোদনার হার এবং নিয়মাবলী সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই সর্বশেষ তথ্যের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বা আপনার স্থানীয় ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করুন।
যদি আপনার আরও কোনো তথ্যের প্রয়োজন হয় বা নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে চান,
.jpg)